নগরজীবন

অপহরণকারীরা মুখ বন্ধ রাখতে অশ্লীল ছবি তুলে রাখত

রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উত্তরা বিভাগের একটি টিম। দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার অপহরণ চক্রের সদস্য।

আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাদেকুল ইসলাম, মো. ইফরান, মোহাম্মদ আলী রিফাত, কুতুব উদ্দিন, মাছুম রানা ও গোলাম রাব্বি। গ্রেপ্তারকালে তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, একটি ছুরি, অপহৃত একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরো দাবি করেন, ‘অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণের পর চক্রের নারী সদস্যদের দিয়ে ভুক্তভোগীর অশ্লীল ছবি তুলে রাখত, যাতে ভিকটিম মুখ খুলতে না পারে। যদি এ বিষয়ে পুলিশ অথবা অন্য কারো কাছে অভিযোগ করে তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের অশ্লীল ছবি ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখাত। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়ে তারা চুপ থাকত। এ ছাড়া অস্ত্রের মুখে ভিকটিমদের জিম্মি করে রাখা হত। যার ফলে তারা ভয়ে মুখ খুলত না।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গত শুক্রবার রাত সোয়া ৯টায় মো. আনোয়ারুল ইসলাম উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্বপাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত পরিচয় অপহরণকারী চক্রের সদস্য মাইক্রোবাসযোগে সেখানে আসে। চক্রটি সুকৌশলে ভিকটিমকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অপহরণকারীরা ভিকটিমের স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখ ৩৪ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে।’

মুক্তিপণ পাওয়ার পর অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা ভিকটিমকে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকার ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ ছায়াতদন্ত শুরু করে।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে ‍উত্তরায় একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে অপহরণ চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। এই চক্রটি রাজধানীতে গত কয়েকদিনে চারজনকে অপহরণ করেছে তার মধ্যে আনোয়ারুল একজন। প্রাথমিকভাবে ভিকটিমের পরিবারের কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেনি। তারা যখন দেখল গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগ পাওয়ামাত্র একের পর এক অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করছে, তখন আস্থা পেয়ে অভিযোগ নিয়ে ছুটে আসে পুলিশের কাছে। এরই মধ্যে চারজন ভিকটিমই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব ও বিমানবন্দর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 4 =

Back to top button